দ্বীনকিট

বরগুনা তাহাজ্জুদ নামাজের সময় আজকে ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, শনিবার২৬ জিলহজ ১৪৪৭

আজকের তাহাজ্জুদের সময়

রাত শুরু (মাগরিব)

৬:৪৩ অপরাহ্ন

তাহাজ্জুদ শুরু (শেষ তৃতীয়াংশ)

১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

শেষ সময় (ফজরের আগে)

৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

সর্বোত্তম: ২:৪৯ পূর্বাহ্ন থেকে

তাহাজ্জুদ নামাজ কী?

তাহাজ্জুদ হলো রাতের ঐচ্ছিক নামাজ যা মধ্যরাতের পর, বিশেষত রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া হয়। এটি ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ। আল্লাহ তাআলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন। এই সময়ে যে দোয়া করা হয় তা অত্যন্ত মকবুল।

তাহাজ্জুদ সম্পর্কে হাদীস

বুখারী ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮

يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ

“আমাদের রব প্রতি রাতে শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকলে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকছে — আমি তার ডাকে সাড়া দেব।”

মুসলিম ১১৬৩

أَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ

“ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ)।”

সূরা আল-ইসরা ১৭:৭৯

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا

“রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো — এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত। আশা করা যায় তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে পুনরুত্থিত করবেন।”

তাহাজ্জুদ কয় রাকাত?

সর্বনিম্ন রাকাত

নবীজির (ﷺ) সুন্নত

(২+২+২+২)

১১

৮ রাকাত + ৩ বিতর

প্রতিটি ২ রাকাতে সালাম ফেরাতে হবে। তাহাজ্জুদের পর ৩ রাকাত বিতর পড়া সুন্নত। যদি ইশার পর বিতর পড়া হয়ে থাকে, তাহলে তাহাজ্জুদের পর বিতর পড়তে হবে না।

তাহাজ্জুদের দোয়া

ঘুম থেকে উঠে পড়ার দোয়া — বুখারী ১১২০

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফীহিন্না

অর্থ: হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার — তুমিই আসমান, জমিন ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর নূর।

সূরা আল-ইসরা ১৭:৭৯

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا

অর্থ: রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো — এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত। আশা করা যায় তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে পুনরুত্থিত করবেন।

আগামী ৭ দিনের তাহাজ্জুদের সময়

তারিখবারতাহাজ্জুদ শুরুফজর
১৩শনিবার১২:৪৭ পূর্বাহ্ন৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
১৪রবিবার১২:৪৭ পূর্বাহ্ন৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
১৫সোমবার১২:৪৭ পূর্বাহ্ন৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
১৬মঙ্গলবার১২:৪৮ পূর্বাহ্ন৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
১৭বুধবার১২:৪৮ পূর্বাহ্ন৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
১৮বৃহস্পতিবার১২:৪৮ পূর্বাহ্ন৩:৫০ পূর্বাহ্ন
১৯শুক্রবার১২:৪৮ পূর্বাহ্ন৩:৫০ পূর্বাহ্ন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আজকে বরগুনা-তে তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কখন শুরু হয়?

আজকে বরগুনা-তে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ শুরু হয় ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন থেকে। এই সময় থেকে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যাবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ কয় রাকাত পড়তে হয়?

তাহাজ্জুদ সর্বনিম্ন ২ রাকাত পড়া যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণত ৮ রাকাত পড়তেন (২+২+২+২) এবং শেষে ৩ রাকাত বিতর — মোট ১১ রাকাত। প্রতিটি ২ রাকাতে সালাম ফেরাতে হবে।

তাহাজ্জুদের সর্বোত্তম সময় কোনটি?

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ফজরের আগের এক থেকে দেড় ঘণ্টা। আজকে বরগুনা-তে এই সময় ২:৪৯ পূর্বাহ্ন থেকে ৩:৪৯ পূর্বাহ্ন পর্যন্ত। এই সময়ে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন।

তাহাজ্জুদ কি প্রতিদিন পড়া ফরজ?

না, তাহাজ্জুদ ফরজ নয়, তবে এটি সুন্নতে মুস্তাহাব্বাহ (অত্যন্ত পছন্দনীয় সুন্নত)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো তাহাজ্জুদ ছাড়েননি। নিয়মিত পড়লে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়।

ঘুম থেকে উঠতে না পারলে কী করব?

ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদের নিয়ত করবেন এবং অ্যালার্ম দেবেন। তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করুন। ইশার পর বিতর পড়ে ঘুমালে তাহাজ্জুদে উঠতে না পারলেও বিতর হয়ে যাবে। তাহাজ্জুদ নফল নামাজ — কোনো রাতে না পারলে পরের রাতে আবার চেষ্টা করুন।

তাহাজ্জুদের পর কি আবার ঘুমানো যাবে?

হ্যাঁ, তাহাজ্জুদের পর ঘুমানো যাবে। তবে ফজরের ওয়াক্তের আগে উঠে ফজর পড়া ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাজ্জুদের পর কখনো কখনো ঘুমাতেন।

বরগুনা — আরও দেখুন

এই বিভাগের অন্যান্য জেলা