বরগুনা আজকের নামাজের সময়সূচী ২০২৬
১৫ মার্চ ২০২৬, রবিবার — ২৫ রমজান ১৪৪৭
আজকের নামাজের সময়
নামাজের হাদীস ও দোয়া
হাদীস — মুসলিম ৬৫৭
مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ
“যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে, সে আল্লাহর জিম্মায় (আশ্রয়ে) থাকে।”
রাকাত
২ সুন্নত মুয়াক্কাদা + ২ ফরজ = ৪ রাকাত
সকালের আযকার — তিরমিযী ৩৩৯১
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা বিকা আসবাহ্না ওয়াবিকা আমসাইনা ওয়াবিকা নাহ্ইয়া, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর।
অর্থ
হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমরা সকালে প্রবেশ করলাম, তোমার নামেই সন্ধ্যায়, তোমার নামেই বাঁচি ও মরি, এবং তোমার কাছেই ফিরে যাব।
হাদীস — আবু দাউদ ১২৬৯, তিরমিযী ৪২৮
مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ
“যে ব্যক্তি যোহরের আগে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন।”
রাকাত
৪ সুন্নত + ৪ ফরজ + ২ সুন্নত + ২ নফল = ১২ রাকাত
সকাল-সন্ধ্যার যিকির — বুখারী ৬৪০৫
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ
সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, সুবহা-নাল্লা-হিল আযীম।
অর্থ
আল্লাহ পবিত্র ও তাঁর প্রশংসা, মহান আল্লাহ পবিত্র।
ফজিলত
এই যিকির জিহ্বায় হালকা, মিযানে ভারী এবং রহমানের কাছে প্রিয়। সকালে ও সন্ধ্যায় একশতবার পড়লে গুনাহ মাফ হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমান হয়। (বুখারী ৬৪০৬, মুসলিম ২৬৯১)
হাদীস — বুখারী ৫৫২, মুসলিম ৬২৬
مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ
“যার আসরের নামাজ ছুটে যায়, সে যেন তার পরিবার ও সম্পদ হারিয়েছে।”
রাকাত
৪ সুন্নত গাইরে মুয়াক্কাদা + ৪ ফরজ = ৮ রাকাত
বিকালের আযকার — তিরমিযী ৩৩৯১
اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা বিকা আমসাইনা ওয়াবিকা আসবাহ্না ওয়াবিকা নাহ্ইয়া, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
অর্থ
হে আল্লাহ! তোমার নামেই সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম, তোমার নামেই সকালে, তোমার নামেই বাঁচি ও মরি, এবং তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন।
হাদীস — আবু দাউদ ৪১৮ (হাসান সহীহ)
لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ حَتَّى تَشْتَبِكَ النُّجُومُ
“আমার উম্মত ততদিন কল্যাণে থাকবে, যতদিন তারা তারা উদিত হওয়া পর্যন্ত মাগরিব বিলম্ব না করে।”
রাকাত
৩ ফরজ + ২ সুন্নত মুয়াক্কাদা + ২ নফল = ৭ রাকাত
সন্ধ্যার আযকার — মুসলিম ২৭২৩
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ
উচ্চারণ
আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ।
অর্থ
আমরা সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম এবং সমস্ত রাজত্ব ও প্রশংসা আল্লাহর।
হাদীস — বুখারী ৬১৫, মুসলিম ৪৩৭
لَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا
“মানুষ যদি জানত ইশা ও ফজরের নামাজে কী সওয়াব আছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত।”
রাকাত
৪ সুন্নত + ৪ ফরজ + ২ সুন্নত + ৩ বিতর = ১৩ রাকাত
ঘুমানোর আগের দোয়া — বুখারী ৬৩২৪
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
উচ্চারণ
বিস্মিকাল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া।
অর্থ
হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নামেই জীবিত হই।
নামাজের পরে তাসবীহ
প্রতি ফরজ নামাজের পর — মুসলিম ৫৯৭
سُبْحَانَ اللَّهِ
—সুবহানাল্লাহ
আল্লাহ পবিত্র-মহান
الْحَمْدُ لِلَّهِ
—আলহামদুলিল্লাহ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর
اللَّهُ أَكْبَرُ
—আল্লাহু আকবার
আল্লাহ সবচেয়ে বড়
তারপর একবার
لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।
অর্থ
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
ফজিলত
তাসবীহ ৩৩ + ৩৩ + ৩৩ = ৯৯ এবং তারপর এই কালিমা একবার — মোট ১০০ বার পূর্ণ হয়। গুনাহ মাফ হয়ে যায়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির মতো হয়। (মুসলিম ৫৯৭)
নামাজের সময় শুরু ও শেষ
| নামাজ | শুরু | শেষ |
|---|---|---|
| ফজর | ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন | ৬:০৭ পূর্বাহ্ন |
| যোহর | ১২:০৯ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন |
| আসর | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:০৮ অপরাহ্ন |
| মাগরিব | ৬:০৮ অপরাহ্ন | ৭:২২ অপরাহ্ন |
| ইশা | ৭:২২ অপরাহ্ন | মধ্যরাত পর্যন্ত |
নফল নামাজের সময়
ইশরাক
৬:২৮ পূর্বাহ্ন থেকে
সূর্যোদয়ের পর থেকে চাশতের আগ পর্যন্ত
সূর্যোদয়ের প্রায় ২০ মিনিট পর শুরু হয়। ২ বা ৪ রাকাত পড়া যায়। (তিরমিযী ৫৮৬ — হাদীসটি দুর্বল বলে কেউ কেউ বলেন)
চাশত (দোহা)
৯:০৯ পূর্বাহ্ন থেকে
সূর্য উঁচু হওয়ার পর থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত
সূর্যোদয় ও যোহরের মাঝামাঝি সময়ে পড়তে হয়। সর্বনিম্ন ২, সর্বোচ্চ ১২ রাকাত। (মুসলিম ৭২০)
আওয়াবীন
৬:০৮ অপরাহ্ন — ৭:২২ অপরাহ্ন
মাগরিবের পর থেকে ইশার আগ পর্যন্ত
মাগরিবের পর ইশার আগে পড়তে হয়। ৬ রাকাত পড়া মুস্তাহাব। (তিরমিযী ৪৩৫ — হাদীসটি দুর্বল)
মাকরূহ সময়
নিচের সময়গুলোতে নফল নামাজ পড়া মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। তবে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কাযা নামাজ এই সময়েও পড়া যাবে। (মুসলিম ৮৩১)
সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট আগে থেকে ২০ মিনিট পর পর্যন্ত নফল নামাজ পড়া মাকরূহ তাহরিমি।
সূর্য যখন মাথার ঠিক উপরে থাকে সেই সংক্ষিপ্ত সময়টুকু নামাজ পড়া মাকরূহ। যোহরের ৫ মিনিট আগ পর্যন্ত।
সূর্যাস্তের ২০ মিনিট আগে থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু পর্যন্ত নফল নামাজ পড়া মাকরূহ।
আগামী ৭ দিনের নামাজের সময়সূচী
| তারিখ | বার | ফজর | যোহর | আসর | মাগরিব | ইশা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১৫ | রবিবার | ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন | ১২:০৯ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:০৮ অপরাহ্ন | ৭:২২ অপরাহ্ন |
| ১৬ | সোমবার | ৪:৫৩ পূর্বাহ্ন | ১২:০৯ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:০৮ অপরাহ্ন | ৭:২৩ অপরাহ্ন |
| ১৭ | মঙ্গলবার | ৪:৫২ পূর্বাহ্ন | ১২:০৮ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:০৯ অপরাহ্ন | ৭:২৩ অপরাহ্ন |
| ১৮ | বুধবার | ৪:৫১ পূর্বাহ্ন | ১২:০৮ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:০৯ অপরাহ্ন | ৭:২৩ অপরাহ্ন |
| ১৯ | বৃহস্পতিবার | ৪:৫০ পূর্বাহ্ন | ১২:০৮ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:০৯ অপরাহ্ন | ৭:২৪ অপরাহ্ন |
| ২০ | শুক্রবার | ৪:৪৯ পূর্বাহ্ন | ১২:০৮ অপরাহ্ন | ৪:২৮ অপরাহ্ন | ৬:১০ অপরাহ্ন | ৭:২৪ অপরাহ্ন |
| ২১ | শনিবার | ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন | ১২:০৭ অপরাহ্ন | ৪:২৯ অপরাহ্ন | ৬:১০ অপরাহ্ন | ৭:২৫ অপরাহ্ন |
বরগুনা-র কিবলার দিক
দিক: পশ্চিম
বরগুনা থেকে মক্কার দিক পশ্চিম — কম্পাসে ২৭৯° কোণে। নামাজের সময় এই দিকে মুখ করে দাঁড়ানো ফরজ।
বরগুনা সম্পর্কে
বরগুনা (Barguna) বাংলাদেশের একটি জেলা। স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ 22.1530°, দ্রাঘিমাংশ 90.1266°। সময় অঞ্চল: UTC+৬ (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টাইম)। নামাজের সময় কারাচি পদ্ধতিতে (ফজর ১৮°, ইশা ১৮°) ও হানাফি মাযহাব অনুযায়ী গণনা করা হয়। এই পদ্ধতি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় মসজিদ অনুসরণ করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
আজকের বরগুনা ফজরের নামাজের সময় কত?
আজকে বরগুনা জেলায় ফজরের নামাজের সময় ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন। সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত ফজরের ওয়াক্ত থাকে।
কোন পদ্ধতিতে বরগুনা-র নামাজের সময় হিসাব করা হয়?
কারাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পদ্ধতিতে (ফজর ১৮°, ইশা ১৮°) হিসাব করা হয়। আসরের সময় হানাফি মাযহাব অনুযায়ী (ছায়া দ্বিগুণ)। এই পদ্ধতি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুসরণ করে।
সময়গুলো কি সঠিক?
হ্যাঁ। জ্যোতির্বিদ্যার গণনার উপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয় এবং স্থানীয় মসজিদের সময়সূচীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে ১-২ মিনিট পার্থক্য হতে পারে।
আজকের বরগুনা ইশরাকের নামাজের সময় কত?
সূর্যোদয়ের প্রায় ২০ মিনিট পর ইশরাকের সময় শুরু হয়। আজকে বরগুনা-তে ইশরাকের সময় উপরের নফল নামাজের সময়সূচীতে দেওয়া আছে।
মাকরূহ সময় কোনগুলো এবং এই সময়ে কী করা যাবে না?
তিনটি মাকরূহ সময় আছে: (১) সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট আগে থেকে ২০ মিনিট পর, (২) ঠিক দুপুরে সূর্য মাথার উপর থাকাকালীন (যাওয়াল), (৩) সূর্যাস্তের ২০ মিনিট আগে থেকে মাগরিব পর্যন্ত। এই সময়গুলোতে নফল নামাজ পড়া মাকরূহ, তবে কাযা নামাজ পড়া যাবে।
ফজরের নামাজ কয় রাকাত — সুন্নত ও ফরজ মিলিয়ে?
ফজরের নামাজ মোট ৪ রাকাত: ২ রাকাত সুন্নত মুয়াক্কাদা (ফরজের আগে) এবং ২ রাকাত ফরজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। (মুসলিম ৭২৫)
নামাজের পরে কোন তাসবীহ পড়তে হয়?
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর: সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, তারপর একবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু..."। (মুসলিম ৫৯৭) এরপর আয়াতুল কুরসী পড়া সুন্নত।
বরগুনা থেকে কিবলার দিক কোনটি?
বরগুনা থেকে কিবলার দিক পশ্চিম (প্রায় ২৭৯°)। কম্পাসে এই দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে হবে।
হানাফি মাযহাবে আসরের সময় কখন শুরু হয়?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী আসরের সময় শুরু হয় যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয় (মূল ছায়া বাদ দিয়ে)। এটি শাফেয়ী মাযহাবের আসরের সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে।
বরগুনা জেলার কিবলা কোণ কত ডিগ্রি?
বরগুনা জেলা থেকে মক্কার কিবলা কোণ প্রায় ২৭৯ ডিগ্রি (উত্তর থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে)। স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ 22.1530°, দ্রাঘিমাংশ 90.1266°।
বরগুনা — আরও দেখুন
এই বিভাগের অন্যান্য জেলা
বরগুনা সূর্যোদয়: ৬:০৮ পূর্বাহ্ন