দ্বীনকিট

ফিতরা কত টাকা ২০২৬ — হিসাব করুন

ঈদুল ফিতরের আগে পরিবারের সকল সদস্যের ফিতরা হিসাব করুন

সর্বশেষ আপডেট: তথ্যসূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
সর্বনিম্ন ফিতরা ২০২৬
১১০
জনপ্রতি — গম/আটা
সর্বোচ্চ ফিতরা ২০২৬
২৮০৫
জনপ্রতি — পনির

ফিতরার হার ২০২৬

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ — ১৪৪৭ হিজরি

পণ্য
পরিমাণ
মূল্য (টাকা)
গম/আটাসর্বনিম্ন
১ কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা')
১১০
যব
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
৫৯৫
খেজুর
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
২৪৭৫
কিশমিশ
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
২৬৪০
পনিরসর্বোচ্চ
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
২৮০৫

গত বছরের তুলনায় পরিবর্তন

২০২৬ বনাম ২০২৫ — ফিতরার হারের তুলনা

পণ্য
২০২৫
২০২৬
পরিবর্তন
গম/আটা
১১৫
১১০
যব
৫৩০
৫৯৫
৬৫
খেজুর
২৩১০
২৪৭৫
১৬৫
কিশমিশ
১৯৮০
২৬৪০
৬৬০
পনির
২৯৭০
২৮০৫
১৬৫

২০২৬ সালে সর্বনিম্ন ফিতরা ৫ টাকা কমেছে এবং সর্বোচ্চ ফিতরা ১৬৫ টাকা কমেছে। বাজারে গম ও পনিরের দাম কমায় ফিতরার হার হ্রাস পেয়েছে।

ফিতরা ক্যালকুলেটর

পরিবারের সদস্য সংখ্যা দিন, মোট ফিতরা দেখুন

জন
সর্বনিম্ন ফিতরা
১১০
জন × ৳১১০ (গম/আটা)
সর্বোচ্চ ফিতরা
২৮০৫
জন × ৳২৮০৫ (পনির)

পণ্য অনুযায়ী বিস্তারিত — জনের জন্য

গম/আটা
১ কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা')
১১০
যব
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
৫৯৫
খেজুর
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
২৪৭৫
কিশমিশ
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
২৬৪০
পনির
৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা')
২৮০৫

ফিতরা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬

ধাপে ধাপে ফিতরা আদায়ের পদ্ধতি

নিয়ত করুন

ফিতরা আদায়ের নিয়ত করুন। মনে মনে সংকল্প করলেই যথেষ্ট — মুখে উচ্চারণ জরুরি নয়। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদা নিয়ত করুন।

পরিমাণ নির্ধারণ করুন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষিত ৫টি পণ্যের যেকোনো একটির হারে ফিতরা দিন। সর্বনিম্ন ৳১১০ (গম/আটা) থেকে সর্বোচ্চ ৳২৮০৫ (পনির)। উপরের ক্যালকুলেটর দিয়ে পরিবারের মোট হিসাব করুন।

প্রাপক নির্বাচন করুন

গরিব, মিসকিন ও অভাবী মুসলিমদের ফিতরা দিন। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা অভাবী তাদের অগ্রাধিকার দিন। এক ব্যক্তিকে একাধিক জনের ফিতরা দেওয়া যায়।

ঈদের নামাজের আগে আদায় করুন

ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করুন। রমজানের যেকোনো সময় দেওয়া যায়, তবে ঈদের নামাজের পর দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে।

ফিতরার নিয়ম ও মাসআলা

সাদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে জরুরি তথ্য

কার উপর ফিতরা ওয়াজিব?

প্রত্যেক স্বাধীন, সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারী যার কাছে ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা বা সমমূল্যের সম্পদ) থাকে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। নিজের এবং নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করতে হয়।

কখন আদায় করবেন?

ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম। রমজান মাসের যেকোনো সময় আদায় করা যায়। ঈদের নামাজের পরে দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে।

কাকে দেবেন?

গরিব, মিসকিন ও অভাবী মুসলিমদের দিতে হয়। যারা যাকাত গ্রহণের যোগ্য তারাই ফিতরা গ্রহণের যোগ্য। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা অভাবী তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম।

হিসাবের পদ্ধতি

ইসলামি শরিয়াহ মতে, গম/আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির — এই পাঁচটি পণ্যের যেকোনো একটি দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। গম/আটার ক্ষেত্রে অর্ধ সা' (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং বাকি পণ্যের ক্ষেত্রে এক সা' (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) পরিমাণ বা তার বাজারমূল্য দিতে হয়। নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো পণ্যের মূল্যে আদায় করা যায়।

আরও দেখুন

ফিতরা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

ফিতরা কী?

ফিতরা (সাদাকাতুল ফিতর) হলো রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের আগে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর ওয়াজিব একটি দান। এটি রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ এবং গরিব-অসহায়দের ঈদের আনন্দে শামিল করার জন্য নির্ধারিত।

ফিতরা কত টাকা ২০২৬?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালে (১৪৪৭ হিজরি) ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা (গম/আটা) এবং সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা (পনির)। নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো হারে আদায় করা যায়।

ফিতরা কে দেবে?

প্রত্যেক স্বাধীন, সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারী যার কাছে ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। নিজের এবং নিজের অধীনস্থ (নাবালক সন্তান) সকলের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হয়।

ফিতরা কখন দিতে হয়?

ফিতরা ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে আদায় করা উত্তম। রমজান মাসের যেকোনো সময় আদায় করা যায়। তবে ঈদের নামাজের পরে দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে, ফিতরা আদায় হবে না। (আবু দাউদ ১৬০৯)

ফিতরা কাকে দিতে হয়?

ফিতরা গরিব, মিসকিন ও অভাবী মুসলিমদের দিতে হয়। যারা যাকাত গ্রহণের যোগ্য তারাই ফিতরা গ্রহণের যোগ্য। নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী তাদের দেওয়া উত্তম।

শিশুদের পক্ষ থেকে কি ফিতরা দিতে হয়?

হ্যাঁ। পিতা বা অভিভাবককে নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হয়। নবজাতক শিশু যদি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের আগে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার পক্ষ থেকেও ফিতরা দিতে হবে।

ফিতরা কি টাকায় দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, হানাফি মাযহাব অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে তার বাজারমূল্য টাকায় আদায় করা জায়েজ। বাংলাদেশে সাধারণত টাকায় ফিতরা আদায় করা হয়।

সর্বনিম্ন ফিতরা কত?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ২০২৬ সালের ঘোষণা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ফিতরা জনপ্রতি ১১০ টাকা (গম/আটার বাজারমূল্য অনুযায়ী)। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি দেওয়া উত্তম।

ফিতরা ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য কী?

যাকাত হলো সম্পদের উপর বার্ষিক ২.৫% হারে নির্ধারিত ফরজ দান, যা নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকলে দিতে হয়। ফিতরা হলো রমজানের শেষে ঈদের আগে প্রতিটি সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ওয়াজিব দান। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ইবাদত।

ফিতরা দেরিতে দিলে কী হবে?

ঈদুল ফিতরের নামাজের পরে ফিতরা দিলে তা ফিতরা হিসেবে আদায় হবে না, সাধারণ সদকা হবে। তাই ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা জরুরি। রমজানের শুরু থেকেই ফিতরা আদায় করা যায়।

এবার ফিতরার হার কেন কমল?

২০২৬ সালে বাজারে গম/আটা ও পনিরের দাম কমায় ফিতরার পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। গম/আটায় ৫ টাকা কমে ৳১১০ এবং পনিরে ১৬৫ টাকা কমে ৳২৮০৫ হয়েছে। অন্যদিকে যব, খেজুর ও কিশমিশের দাম বেড়েছে।