দ্বীনকিট

দুশ্চিন্তা দূর করার দোয়া

আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ — নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ ৪৬; হাকিম (হাসান)

يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ، أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ

উচ্চারণ

ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূমু বিরাহমাতিকা আসতাগীছু, আসলিহ লী শা'নী কুল্লাহু ওয়া লা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা আইন।

বাংলা অর্থ

হে চিরঞ্জীব, হে সর্বসত্তার ধারক! আমি আপনার রহমতের উসিলায় সাহায্য প্রার্থনা করি। আমার সকল অবস্থা সংশোধন করে দিন এবং আমাকে চোখের পলক পরিমাণ সময়ের জন্যও আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না।

নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ ৪৬; হাকিম (হাসান)

কখন ও কীভাবে পড়বেন

দুশ্চিন্তা দূর করার দোয়া পড়ার সময় ও নিয়ম

দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, কাজের বোঝা বা যেকোনো সংকটের সময় এই দোয়া পড়া উত্তম। যখন মনে হয় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন, তখন এই দোয়ার মাধ্যমে নিজের সকল বিষয় আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা হয়। সকাল-সন্ধ্যার যিকির হিসেবেও এটি পড়া যায়।

ফজিলত

দুশ্চিন্তা দূর করার দোয়া পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা

এই দোয়ায় আল্লাহকে তাঁর দুটি মহান নাম "আল-হাইয়্যু" (চিরঞ্জীব) ও "আল-ক্বাইয়্যূম" (সর্বসত্তার ধারক ও পরিচালক) দিয়ে ডাকা হয় — এই নাম দুটি আল্লাহর চিরন্তন জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিজগৎ পরিচালনার গুণ প্রকাশ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে এই দোয়া শিখিয়ে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে বলেছিলেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত; ইমাম হাকিম এটিকে সহীহ এবং শায়খ আল-আলবানী সনদকে হাসান বলেছেন (সিলসিলা সহীহা ২২৭)। "চোখের পলক পরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না" — এই অংশটি বান্দার চূড়ান্ত মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ।

সম্পর্কিত দোয়া

আরও দেখুন

দুশ্চিন্তা দূর করার দোয়া সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

দুশ্চিন্তা দূর করার দোয়া কোনটি?

দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের সময় পড়ার দোয়া হলো — "ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূমু বিরাহমাতিকা আসতাগীছু, আসলিহ লী শা'নী কুল্লাহু ওয়া লা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা আইন।" অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সর্বসত্তার ধারক, আমি আপনার রহমতের সাহায্য চাই; আমার সকল অবস্থা সংশোধন করে দিন (নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ ৪৬)।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তায় কী করব?

মানসিক চাপের সময় আল্লাহর উপর ভরসা করে এই দোয়া পড়ুন: "ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূমু বিরাহমাতিকা আসতাগীছু..." — এতে নিজের সকল বিষয় আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা হয়। পাশাপাশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও বেশি বেশি যিকির মনে প্রশান্তি আনে।

ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূম দোয়াটি কে শিখিয়েছিলেন?

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে এই দোয়া শিখিয়েছিলেন এবং সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়তে বলেছিলেন। হাদিসটি আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইমাম নাসাঈ ও ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন। শায়খ আল-আলবানী এর সনদকে হাসান বলেছেন।

এই দোয়াটি কি সহীহ?

হ্যাঁ, এই দোয়াটি নির্ভরযোগ্য। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি নাসাঈ (আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ ৪৬) ও হাকিমের মুসতাদরাকে রয়েছে। ইমাম মুনযিরী ও ইমাম হাকিম সনদকে সহীহ এবং শায়খ আল-আলবানী হাসান বলেছেন (সিলসিলা সহীহা ২২৭)।